1. [email protected] : Administrator :
  2. [email protected] : facfltd :
হযরত মুনছুর হাল্লাজ(রহঃ) - Ekattor Bangladesh TV
March 27, 2026, 9:25 pm

হযরত মুনছুর হাল্লাজ(রহঃ)

Reporter Name
  • Update Time : Friday, March 27, 2026
  • 2 Time View

জনতার কথাঃহযরত মুনছুর হাল্লাজ (রহঃ) বলতে সাধারণত মুনছুর আল-হাল্লাজ (রহঃ)-কে বোঝানো হয়, যিনি ইসলামের ইতিহাসে একজন অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও বিতর্কিত সুফি সাধক, মরমি কবি এবং আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব।

 

বাংলায় প্রায়ই “মনসুর হাল্লাজ”, “মুনসুর হাল্লাজ” বা “আয়নাল হক বলে পরিচিত।

 

 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
জন্ম: আনুমানিক ৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ (হিজরি ২৪৪ সাল) ইরানের ফারস প্রদেশের তুর বা বাইজা অঞ্চলে।
পুরো নাম: আবু আব্দুল্লাহ হুসাইন ইবনে মানসুর আল-হাল্লাজ।

 

উপাধি: “আল-হাল্লাজ” এসেছে তার পিতার পেশা থেকে (আরবিতে হাল্লাজ মানে সুতা/তুলা প্রস্তুতকারক বা ধুনকার)।

 

 

দাদা ছিলেন জরথুস্ট্র ধর্মের অনুসারী ধর্মযাজক, কিন্তু পিতা মুসলিম হয়েছিলেন এবং সাধারণ জীবনযাপন করতেন।

 

 

ছোটবেলায় কুরআন হিফজ করেন এবং অল্প বয়স থেকেই সুফি সাধকদের সঙ্গে যুক্ত হন। তার উস্তাদদের মধ্যে ছিলেন সাহল আত-তুস্তারী, আমর বিন উসমান আল-মাক্কি এবং জুনায়েদ বাগদাদী (রহঃ)।

 

 

আধ্যাত্মিক যাত্রা ও শিক্ষা
তিনি সুফিবাদের গভীর অনুসন্ধান করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং মানুষের মাঝে ইসলামের মরমি দিক প্রচার করেন। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে  সুফিবাদের গভীর তত্ত্ব প্রকাশ করতেন, যা অনেক সুফি শায়খের কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল।

 

 

সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা
তিনি ধ্যানমগ্ন অবস্থায় উচ্চারণ করেন “আনাল হাক্ক” (আমিই সত্য/আমিই হক)।
“আল-হাক্ক” আল্লাহর একটি নাম (পরম সত্য)।
অনেকে এটাকে খোদাত্বের দাবি মনে করে অভিযোগ করেন।

 

কেউ কেউ বলেন, এটা ফানা ফিল্লাহ (আল্লাহতে বিলীন) অবস্থার প্রকাশ, যেখানে আত্মা ও আল্লাহর মধ্যে পার্থক্য থাকে না।

 

 

মৃত্যু
তৎকালীন আব্বাসীয় খলিফা আল-মুকতাদিরের শাসনামলে (৯২২ খ্রিস্টাব্দ / ৩০৯ হিজরি) তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দীর্ঘ বিচার ও ১১ বছরের কারাবাসের পর ২৬ মার্চ ৯২২ সালে বাগদাদে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে শাস্তি দেওয়া হয়।  হাজার বেত্রাঘাত হাত-পা কাটা  শিরশ্ছেদ → দেহ পুড়িয়ে ছাই দজলা নদীতে ফেলা।

 

সূত্রে জানায় মৃত্যর এবং শাস্তির সময়ও তিনি আল্লাহর জিকির বন্দ করেন নি।

 

বিতর্ক ও দৃষ্টিভঙ্গি
কিছু আলেম (যেমন ইবনে কাসীর) তাকে প্রতারক, জাদুকর বা বিদআতি বলে সমালোচনা করেছেন।

 

 

অনেক সুফি ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তি তাকে আল্লাহর প্রেমে পাগল ওলি/শহীদ মনে করেন। আশরাফ আলী থানভী (রহঃ)-এর মতো অনেকে বলেছেন, তার মৃত্যু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল ছিল।

 

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় তাকে প্রায়ই “হযরত মনছুর হাল্লাজ (রহঃ)” বলে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়, বিশেষ করে ওয়াজ-মাহফিলে তার কারামত ও আল্লাহর পাগল হিসেবে বর্ণিত হয়।

 

 

তিনি সুফিবাদের ইতিহাসে আল্লাহর প্রেম ও ফানার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved
Theme Customized By LiveTV